মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মোছা. আনার কলি ও তাঁর স্বজনরা।
লিখিত বক্তব্যে আনার কলি দাবি করেন, ২০২৩ সালে তিনি শহরের রেলগেট এলাকায় আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিক সাহাব উদ্দিন মণ্ডলের কাছ থেকে বৈধ দলিলমূলে প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দেন।
আনার কলি বলেন, “জমির মালিকানা ও চুরির ঘটনায় থানা এবং আদালতে পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা
বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরও রোকেয়া সুলতানা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছেন এবং আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ থাকলেও রোকেয়া সুলতানা কোনো বৈধ মালিকানার দলিল দেখাতে পারেননি। বরং মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে একতরফা ডিগ্রি নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই ডিগ্রির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আনার কলি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঈশ্বরদী পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে তাঁর প্রয়াত স্বামী শাহান মণ্ডলের সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি জমিটির মালিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাবিবুর রহমান কর্ণেল নামে এক ব্যক্তি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমিটি অবৈধভাবে ক্রয় করেন এবং পরে সেটি একাধিকবার হাতবদল হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রোকেয়া সুলতানা বলেন, “জমিটির বৈধ মালিক আমি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে জমির দখল বুঝে নেওয়ার জন্য উচ্ছেদ মামলা করা হবে।” একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকায় স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা
বলছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।


0 Comments